রাসুল (সা.) ও ইসলাম সম্পর্কে শাহবাগের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারি ব্লগার রাজিবসহ অন্য নাস্তিক ব্লগারদের অশ্লীল-আপত্তিকর উক্তি ও প্রচারণার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। সারাদেশে ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। আজ রাজধানীতে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিুব্ধ ধর্মপ্রাণ মানুষ। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের ব্যানারে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন সাধারণ মুসল্লিরাও। পুলিশী বাধার মুখে পল্টনের গলিতে মিছিল-সমাবেশ করেছে ইসলামী ঐক্যজোট। অন্যদিকে আগামী শুক্রবার বাদ জুমা সারা দেশে মসজিদে মসজিদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচী দিয়েছে ইসলাম দল, সংগঠন, মুফাস্সির উলামা মাশায়েখরা। বায়তুল মোকাররমে সর্বদলীয় মিছিল সমাবেশের কর্মসুচী দিয়েছে ইসলামী কয়েকটি দল।
আজ রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার আশ্রয় প্রশ্রয় ও সহযোগিতা দিয়ে নাস্তিকদের তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে শাহবাগের রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। তারা ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের’ নামে ইসলামের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। বক্তারা বলেন, শাহবাগ আন্দোলনের উদ্দেশ্য যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসি নয়, ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করা। ইসলামকে নির্মূল করা। এখন তারা লুকোচুরি করছে অথচ স্পিকারের কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি পরিস্কারভাবে উল্লেখ আছে। আর প্রধানমন্ত্রী সেটার সাথে একমত পোষণ করেছেন। বক্তারা বলেন, রাসুল সা:-এর ওপর আক্রমণ করে নাস্তিক ব্লগাররা ঈমানের ওপর আক্রমণ করেছে। সকল দল মতোর ইসলামী জনতার বৃহত্তর ঐক্য গড়ে নাস্তিক এবং তাদের সহযোগিদের প্রতিহত করা হবে।
বিকালে পল্টনে হাউজ বিন্ডিংয়ের সামনে অনুষ্টিত ইসলামী আন্দোলনের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম নাস্তিক-মুরতাদ ও নবীর দুশমনদের কবর রচিত না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক আন্দোলন চালিয়ে যেতে দলমত নির্বিশেষে সকল ঈমানদার জনতার প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নব্য ব্লগার নাস্তিক-মুরতাদদের সরকার সহযোগিতা করছে। সরকার তথাকথিত নব প্রজন্মকে নেশাদ্রব্য, লিভটুগেদার করার সুযোগ করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সোনার ছেলেদের হাতে নিহত বিশ্বজিৎকে দেখার সুযোগ না হলেও নাস্তিক-বেঈমান রাজীবের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে বাসায় গিয়েছেন। কোন অজুহাতেই ধর্মদ্রোহী নাস্তিক গোষ্ঠীর আস্ফালন সহ্য করা হবে না। নাস্তিক ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাতকারী ব্লগারদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে, নতুবা মুসলমানদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে পরিণাম ভাল হবে না।
ধর্মদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারদের আল্লাহ, রাসূল, কুরআন ও ইসলাম বিরোধী অশ্লীল প্রচারনার নিন্দা এবং ইসলাম বিদ্বেষী চক্রের ইসলামী রাজনীতি বন্ধের চক্রান্তের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, আবু সাঈদ সিদ্দিকী, ছাত্রনেতা মোঃ আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।সমাবেশ আসার পথে রাজধানীর সামনে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের হামলায় ১৫/২০ কর্মী আহত ও ৫জন গ্রেফতার হয়।
সমাবেশে মুফতী ফয়জুল করীম আরো বলেন, সরকার নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আজীবনের জন্য প্রত্যাখান করবে। আমরা কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে জানতে পেরেছি একটি চরম ইসলাম বিরোধী নাস্তিক ব্লগারচক্র মহান আল্লাহ তা’য়ালা, মহানবী হযরত মুহাম্মাদ স., পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআন, আমাদের পবিত্র ধর্ম ইসলাম, ইসলামের মৌলিক ইবাদত নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত, কুরবানী, তাহাজ্জুত, উম্মাহাতুল মু’মিনীন, সাহাবায়ে কেরামসহ ইসলামের বিভিন্ন বিধিবিধান নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও প্রচারনা চালাচ্ছে। আমরা নিজেরাও অনুসন্ধান চালিয়ে বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। আমরা বিস্মিত হয়েছি ৯০ ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত একটি দেশে নাস্তিকচক্র কি করে ইসলামের বিরুদ্ধে এজাতীয় উচ্চারণের অনুপযোগী ভাষায় অশ্লীলতা ছড়াতে পারে। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আড়ালে একটি নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠী ইসলামী রাজনীতি বন্ধেরও আওয়াজ তুলছে। ক্ষমতাসীন সরকারের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা কোন কোন ইসলামবিরোধী মন্ত্রীও নাস্তিকদের এই সুরে সুর মেলাচ্ছে। আমাদের ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার একটি অংশ এই নাস্তিকচক্রকে উস্কে দিচ্ছে। আমরা গভীরভাবে বিষয়টি পর্যবেণ করে দেখেছি মতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার এই নাস্তিকচক্রটি দ্বারা প্রবলভাবে প্রভাবিত। এই অশুভ খেলা বন্ধ না হলে দেশের ইসলামপ্রিয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠী মতাসীন আওয়ামীলীগ সরকারকে ইসলামবিরোধী নাস্তিক্যবাদী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে মতা থেকে ছুড়ে ফেলার জন্যে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তুলবে।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা জানি অতীতে যত মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে সেগুলো স্বৈরশাসক, শোষক দুনীতিবাজ সরকারের বিরুদ্ধে হয়েছে। শাহবাগ আন্দোলনকারিদের সকল দাবির সাথে একমত পোষন করেছেন। এ থেকে সরে না আসলে আপনার জন্য ভংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে। সাপ নিয়ে খেলছেন। সাপের লেজ দিয়ে কান চুলকাবেন না।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে সরকার একটা নোংরা রাজনৈতিক খেলা শুরু করেছে। বিচার নিয়ে মতাসীন সরকারের রাজনৈতিক খেলার সূত্র ধরেই শাহবাগে তরণ-তরুণীদের অবস্থান। তিনি বলেন, আমরা বানের পানিতে ভেসে আসিনি। নাস্তিক বেইমানদের এদেশে ঠাই হবে না।
সমাবেশ থেকে আগামী শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররমে সমাবেশের কর্মসূচী দিয়ে বলা হয়েছে, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। সমাবেশ শেষে বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট হয়ে দৈনিক বাংলা, বায়তুল মোকাররম পন্টন মোড় ঘুরে এসে আবার উত্তর গেটে গিয়ে শেষ হয়।
ইসলামী এক্যজোট
ইসলামী ঐক্যজোট নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে বায়তুল মোকাররম উত্তরগেটে বিক্ষোভ কর্মসূচী দিলেও পুলিশের বাধার মুখে তারা পল্টন মজদের সামনে থেকে ভিতরে গলির মধ্যে মিছিল সমাবেশ করতে বাধ্য হয়। পুলিশ বায়তুল মোকাররম থেকে ব্যনার ছিনিয়ে নেয়। পল্টনের গলিতেও দুই দিক থেকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এরই মধ্যে সমাবেশে ইসলামী এক্যজোটের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
নেতৃবৃন্দ হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেনে, শাহবাগ আন্দোালনের পিছনে এদেশের ইসলাম বিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত মিডিয়া প্রথম আলো, ডেইলী স্টার, কালের কণ্ঠ, সমকাল যুগান্তরসহ কিছু পত্রিকা ও মিডিয়ার উস্কানি প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। আমরা শাহবাগের ফ্যাসিবাদীদের মতো পত্রিকা অফিসে হামলা ভাঙ্গচুর ও পত্রিকায় আগুন দিতে চাই না। কিন্তু এসকল পত্রিকা নাস্তিক মুরতাদদেরকে যে ন্যাক্কারজনকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছে তাদের ইসলাম ও মহানবী সা.-এর বিরুদ্ধে, আল্লাহর বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথাবার্তাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে তা তাদের জন্য অশুভ পরিণতি ডেকে আনবে। সারা বাংলাদেশের ইসলামী ও ঈমানী আন্দোলনের কথা এদের পত্রিকায় ঠাঁই পায় না।
ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী। বক্তব্য রাখেন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রকীব এডভোকেট, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী মুহাম্মদ তৈয়্যেব, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল, অধ্যাপক এহতেশাম সারোয়ার, মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা গাজী ইয়াকুব প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে আগামী শুক্রবার দেশব্যাপী দুআ দিবস এবং জেলা উপজেলার প্রতিটি মসজিদ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করার কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেন, শাহবাগের এই সাময়িক উত্তেজনাকে পরিকল্পিভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর এর উদ্যোক্তা হলো নাস্তিক মুরতাদ ব্লগাররা। তারা এদেশ থেকে ইসলামী রাজনীতিসহ ইসলামী ধ্যান-ধারণাকে মূলোৎপাটিত করতে চায়। কিন্তু একজন তৌহিদী জনতার একজন বেঁচে থাকতে নাস্তিক মুরতাদদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে দেয়া হবে না। আল্লাহ ও মহানবী সা.-এর অবমাননার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তৌহিদী জনতা ঘরে ফিরে যাবে না।
মাওলানা আবদুর রকীব এডভোকেট বলেন, শাহবাগ সৃষ্টি করে শেখ হাসিনা তার ব্যর্থতা ঢাকতে পারবে না। নাস্তিক মুরতাদ ব্লগারদের পেছনে ভারতের সরাসরি হাত রয়েছে। মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী বলেন, আমরা এমন এক কঠিন সময় পার করছি, যখন ইসলামবিরোধীদের নায়ক বানানো হচ্ছে। আরইসলাম-কুরআন-হাদীসের পক্ষে কথা বলার অপরাধে জেল সহ্য করতে হচ্ছে উলামাদের। মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, প্রথম আলোসহ চিহ্নিত মিডিয়ার কারসাজি দেশবাসীর সামনে ফাঁস হয়ে গেছে। প্রথম আলোই নাস্তিক ব্লগারদের শ্রষ্ট। এই পত্রিকা অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে।
শুক্রবার বাদ জুমা সকল মসজিদ থেকে গণবিক্ষোভ
ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের যুগ্ম আহবায়ক ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা শাহ আহমদুল্লাহ আশরাফ বলেছেন, নাস্তিক মুরতাদ ও ইসলামের দুশমনদের অপতৎপরতা রুখে দিতে আগামী ২২ ফেব্র“য়ারি বাদ জুমা সারাদেশের সকল মসজিদে মসজিদে জুময়ার বয়ান ও জুময়ার নামাজ শেষে সর্বস্তরের ঈমানদার মুসলমানদেরকে নিয়ে গণবিক্ষোভ পালন করতে হবে। শাহবাগ চত্বরে নাস্তিক মুরতাদ ও ইসলামের চির দুশমন ধর্মাপোরাধীরা আল্লাহ, মহানবী (সা), পবিত্র কুরআন ও ইসলামী বিভিন্ন বিষয়ের বিরুদ্ধে যেভাবে কটুক্তি করছে তা কোন ঈমানদার সহ্য করতে পারে না। তাই আগামী ২২ ফেব্র“য়ারি জুমার নামাজের পর উক্ত নরপশু ব্লগার ও কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে গণবিস্ফোরণ ঘটাতে হবে। তিনি আজ দুপুর ১২টায় মরহুম হাফেজ্জী হুজুরের ঐতিহাসিক কামরাঙ্গীর চর মাদরাসায় সর্বদলীয় ইসলামী মোর্চার সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওঃ মোহাম্মাদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওঃ আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি এড. আবদুর রকীব, শায়খূল হাদীস মাওঃ সোলায়মান নোমানী, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওঃ মহিউদ্দীন রব্বানী, খেলাফতে ইসলামীর আমীর মাওঃ আবুল হাসনাত, উলামায়ে দেওবন্দ পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মাওঃ আবু জাফর কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান হামিদী, তাহরিকে খমতে নবুয়তের আমীর ড. মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী পীর সাহেব জৈনপুরী, হাক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব মাওঃ শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকি পীর সাহেব শর্ষীনা, মীরের সরাই পীর সাহেব মাওঃ আবদুল মোমেন নাসেরী, মুফতি ফখরুল ইসলাম, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের ঢাকা মহানগরী সভাপতি মাওঃ আহমদ আলী কাসেমী, ইমাম আইম্মাহ পরিষদের সভাপতি মুফতি এ.বি.এম শরীফ উল্লাহ সহ খতমে নবুয়ত, আইম্মাহ পরিষদ, নাস্তিক মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটি, তাহফুজে হারামাইন পরিষদ, বাতিল প্রতিরোধ কমিটি, জমিয়াতুল মুফাসসিরিন, জাতীয় মুফাসসির পরিষদ, জমিয়তে উলামা, ইসলাহুল উম্মাহ, ইসলাহুল মুসলেমীন ইত্যাদি ৩৩টি সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ থেকে ইসলাম বিদায় করার জন্য সরকারের প্রকাশ্য মদদে শাহাবাগ চত্তর থেকে ইসলাম নির্মূলের যে হুঙ্কার দেয়া হচ্ছে তা প্রতিহত করার জন্য সকল ঈমানের দাবীদারদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামতে হবে। তা না হলে তারা গোটা জাতিকে ঈমান হারা করে ফেলবে। আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমিকে চিরতরে ধ্বংস করে দিবে।
সংবাদ সম্মেলনে ঘোষনা দেয়া হয়, আগামী শুক্রবার দেশের সকল মসজিদে মসজিদে গণবিক্ষোভ এবং সর্ববৃহৎ গণজমায়েত জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত হবে । সরকারী দল, বিরোধী দল সহ সকল দল-মত ও মাকতাবে ফিকিরের আম জনতাকে উক্ত গণজমায়েতে শামিল হয়ে ঈমানী দায়িত্ব পালন করার আহবান জানানো হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
বাংলাদেশ খেলফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল রব ইউসুফী আজ এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার বাদ জুমা দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী দিয়েছেন। এছাড়া ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি গণ সংযোগ এবং ১ লা মার্চ শুক্রবার ঢাকায় গণ সমাবেশ করার কথা জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নাস্কিকদের রাজনীতি বন্ধ এবং উৎখাতের আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে কোনো আপত্তি নেই। শুক্রবার রাজপথে সকলের দলের একত্রে মিছিল সমাবেশ করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আলাদ দল হিসেবে কর্মসূচী দিলেও একই দাবিতে আন্দোলন হওয়ার কারণে রাজপথে ঐক্য হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বর্তমান এই ইস্যুটি সম্পূর্ণ একটি ঈমানী ইস্যু। এর সাথে বিশেষ কোনো দল বা গোষ্ঠির সামান্যতম ইন্ধন বা সংশ্লিষ্টতা নেই। কিছু কিছু মিডিয়া এবং ব্যক্তিগণ এর সাথে যুদ্ধাপরাধ ইস্যূ ও জামায়াতে ইসলামী কে টেনে এনে নবী প্রেমের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চায়।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধপরাধীদের বিচার নিয়ে এত দিন সরকার যা করেছিল শাহবাগ আন্দোলন সেই অর্জনকে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে দিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর ইউসুফ আশরাফ, মহাসচিব হুমায়ুন কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জালাল উদ্দিন, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান প্রমুখ।
খবরসূত্রঃ দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ [লিংক]