নিহত রাজীবসহ ধর্মদ্রোহী ও নাস্তিকদের ব্লগে ইসলাম এবং মহানবী (সা.) সম্পর্কে জঘন্য কটূক্তি, ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে ইসলামী দলগুলো। নাস্তিকদের ফাঁসি দাবিতে গতকাল চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে লাখো জনতার বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ তারিখে হাটহাজারীতে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন দেশের শীর্ষ আলেম আল্লামা আহমদ শফি। নাস্তিক ব্লগারদের গ্রেফতার, ইসলামবিরোধী সব ওয়েবসাইট বন্ধ ও ব্লাসফেমি আইন প্রণয়নের দাবিতে আজ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে সমাবেশ ও
মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন। এই ইস্যুতে বাদ আসর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে ইসলামী ঐক্যজোট। দেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের চক্রান্ত রুখতে এবং মাওলানা সাঈদীর মুক্তি দাবিতে আজ সারাদেশে গণবিক্ষোভ করবে মুফাসসিরিন ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ। শুক্রবার সারাদেশে মসজিদে মসজিদে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি দিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দলের জোট। অপরদিকে, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে ওলামাসহ বেশ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে সর্বদলীয় জোটের ব্যানারে আজ ঐক্যবদ্ধ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এছাড়া পৃথক ও জোটগতভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করছে।
এদিকে ব্লগারদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো আন্দোলন গড়ে উঠতে না পারে সেজন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। কর্মসূচি ঘোষণাকারী বিভিন্ন দলকে এ অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে তারা। এরই অংশ হিসেবে ইসলাম ও মহানবীর অবমাননার প্রতিবাদে গতকাল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে বেপরোয়া হামলা চালায়। গুলি টিয়ারশেল লাটিচার্জ করে পণ্ড করে দেয় মিছিলটি। এ সময় ৯ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। আহত হয় বেশ কয়েকজন। এর আগে মিছিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সকাল থেকে দিনভর দলটির কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রাখে ব্যাপকসংখ্যক পুলিশ। পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিল করতে পারেনি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম। মিছিলের অনুমতি নিতে পল্টন থানায় গেলে দলটির নেতাদের নানা হুমকি দেয়া হয়। তবে আগামীতে হামলা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ইসলামী দলগুলো ঈমান রক্ষার আন্দোলনে নামবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হাটহাজারীতে নাস্তিকদের ফাঁসি দাবিতে লাখো জনতার বিক্ষোভ মিছিল, ২৫ তারিখে আহমদ শফির সমাবেশের ডাক : খোরশেদ আলম শিমুল, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে তৌহিদী জনতার উদ্যোগে ডাকা বিক্ষোভ মিছিল উপলক্ষে বেলা ৩টা থেকে ডাকবাংলো চত্বরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সর্বস্তরের জনসাধারণ ও মুসল্লিরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে আসতে থাকে। প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হাটহাজারী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহাদ্দিস আল্লামা শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মুমতাজুল করিম, হাটহাজারী উপজেলা খেলাফত আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, খেলাফত আন্দোলন উত্তরজেলার আহ্বায়ক মাওলানা মো. ইদরিছ, চট্টগ্রাম মহানগর ইসলামী ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল্লাহ, হাটহাজারী ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মো. সেলিম রেজা, মেখল মুসলিম যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাওলানা জাকারিয়া বিন নোমান, মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম, মো. আজিজ, আতিকুর রহমান, মাওলানা গিয়াসুদ্দিন, আশরাফ হাবিবী, মো. ইব্রাহীম খলিল, আবদুল মাবুদ, মো. রাশেদ প্রমুখ।
সংক্ষিপ্ত সভা শুরুর আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মুসল্লি মিছিল নিয়ে এলে ডাকবাংলো চত্বর কানায় কানায় ভরপুর হয়ে যায়। বিক্ষোভ মিছিল ডাকবাংলো চত্বর থেকে বের হলে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি দুই পার্বত্য জেলা সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ১ ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। মিছিলটি যখন হাটহাজারীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তখন রাস্তার দু’পাশে জনতা হাততালি দিয়ে স্বাগত জানায় এবং অনেকেই মিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। এ সময় পুরো হাটহাজারী সদর স্তব্ধ হয়ে যায়।
এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে যায়। সবার মুখে মুখে স্লোগান ছিল ‘ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক ব্লগারদের ফাসি চাই’ হাটহাজারী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহাদ্দিস আল্লামা শামসুল আলম সভাপতির বক্তব্যে বলেন দেশের সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বাদ, ধর্মহীন শিক্ষানীতি, দাঁড়ি টুপি নিয়ে কটূক্তি, শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির নামে ইসলাম ধর্মের অবমাননা, ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে কটূক্তি, তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্তির ঘৃণ্য প্রচেষ্টা, ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের অপচেষ্টা, দেশ থেকে ইসলামকে উত্খাত করার ষড়যন্ত্র, সত্য বলার অপরাধে গণমাধ্যমের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানান।
হাটহাজারী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মুমতাজুল করিম বলেন, নব্বই ভাগ মুসলমানের বাংলাদেশে ইসলাম আজ খুবই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। নইলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের এদেশে কোনোভাবেই সরকার সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস বাদ দিতে পারত না। শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির নামে যে অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করা হয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আজ শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলামকে বাদ দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাইতো তারা বাবার বয়সী লোকের দাঁড়ি ধরে টানাটানি করতেও কুণ্ঠিত হচ্ছে না।
আজকে বিচার দাবির নামে ইসলাম, মুসলমান ও মুসলমানদের নবী-রাসুল নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখা হচ্ছে তা কোনো মুসলমান বরদাশত করতে পারে না। আমি তাদের হুশিয়ার করে বলে দিতে চাই, ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করে পৃথিবীতে কেউ কখনও টিকে থাকতে পারেনি পারবেও না। যার নজির পৃথিবীতে অসংখ্য।
মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন আগে ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যা করা হলো। সে তো একজন মুসলমানের ছেলে, ইসলামী নিয়মে তাকে দাফনও করা হয়েছে। অথচ সেই রাজীবই ইসলামের নবী মোহাম্মদকে (সা.) আহাম্মক আখ্যায়িত করেছে (নাউযুবিল্লাহ)। সে তাহাজ্জুদ নামাজ, ঈদসহ ইসলামের বিভিন্ন দিক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। তার শাস্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবী থেকেই পেয়েছে।
মাওলানা তকিউদ্দীন বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে নই। আমরাও চাই, এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক, জাতি কলঙ্কমুক্ত হোক। কিন্তু বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। বিচারের নামে প্রহসন আমরা মানতে পারি না। যে জাতি অন্যায় দেখে চুপ করে বসেছিল, তারা খোদার গজবে ধ্বংস হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে।
সমাবেশের পরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি হাটহাজারীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাচারী রোড হয়ে ডাকবাংলা চত্বরে শেষ হয়। মিছিল শেষে সমাবেশ থেকে নাস্তিকদের ফাঁসির দাবিতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি হাটহাজারী স্কুলমাঠে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে আল্লামা আহমদ শফির ডাকে এক সমাবেশের ডাক দেয়া হয়।
খেলাফত মজলিসের মিছিলে পুলিশের গুলি : মহানবীর (সা.) দুশমন কুখ্যাত রাজীবকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের প্রতিবাদে এবং ইসলামবিরোধী ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস গতকাল রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করলে তাতে বেপরোয়া হামলা চালায় পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাদ আছর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তরগেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে দলটি। পরে সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাতে বেপরোয়া গুলি, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে। এতে ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, ঢাকা মহানগর সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল মুমিনসহ ১৫ জনকে আটক করে। তাদের পল্টন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে মিছিলের খবরে সকাল ৯টা থেকেই পুরানা পল্টনে খেলাফতের অফিসের নিচে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ এসে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় বাইরে থেকে কাউকে ভেতরে প্রবেশ এবং ভেতরে অবস্থানরতদের বের হতে দেয়নি। ১১টায় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হওয়ার কথা থাকলেও নেতাদের কেউ সেখানে যেতে পারেনি। বাধা দেয়ার আগেই সকালে সেখানে প্রবেশ করা নেতাদের নিয়ে সংক্ষিপ্ত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে শুক্রবার সারাদেশে মসজিদে মসজিদে বিশেষ খুতবা ও দোয়া এবং বাদ জুমা বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এ সময় দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, নিহত কুলাঙ্গার রাজিবসহ ব্লগাররা তাদের ফেসবুকের ব্লগে ইসলাম, মহানবী (সা.)-কে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেছে তা কোনো মুসলমান মেনে নিতে পারে না। তার এহেন ধৃষ্টতার কারণে সে মুসলমান থাকতে পারে না। অথচ সরকার তাকে শহীদ বলে আখ্যা দিয়েছে, যা আমাদের গোটা দেশের সব মুসলমানকে আহত করেছে। তার মৃত্যু যেভাবেই হোক তা আল্লাহর পক্ষ থেকে গজব। এটি একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তার বিষয়ে সংসদে রুলিং দেয়ার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, নাস্তিকরা রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করবে আর মুসলমানদের সমাবেশে বাধা দেয়া হবে তা মেনে নেয়া যায় না। এদিকে গতকাল বিকালে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এনামুল হক নূর। তিনি বলেন, গুলি চালিয়ে তৌহিদি জনতার আন্দোলনকে বন্ধ করা যাবে না।
জমিয়তের মিছিলে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা : পুলিশের নিষেধাজ্ঞার কারণে গতকাল বিকালে পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে পারেনি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। সংগঠনের নেতারা জানান, এই কর্মসূচি পালন না করতে আগের দিন রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে হুমকি দেয়া হয়। পরে এই মিছিলের জন্য পল্টন থানায় গিয়ে অনুমতি চাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ব্লগারদের ব্যাপারে কোনো রকম আন্দোলন করা যাবে না। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বিকালে পল্টনে সংগঠনের কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শুক্রবার বাদ জুমা সারাদেশে জমিয়তের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জয়েন্ট সেক্রেটারি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, প্রচার সম্পাদক ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মুফতি রেদওয়ানুল বারী সিরাজী, তোফায়েল গাজালী প্রমুখ।
খেলাফত আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন, আজ কর্মসূচি ঘোষণা : বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান আমিরে শরিয়ত শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দেশ। এদেশে ইসলামি রাজনীতি ছিল, আছে এবং থাকবে। কারও হুমকি-ধমকি ও দাবিতে ধর্মীয় তথা ইসলামি রাজনীতি নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র এদেশের জনগণ মেনে নেবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবির সঙ্গে ইসলামি রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা সব যুদ্ধাপরাধীর স্বচ্ছ বিচার চাই। তবে যে সরকারের মন্ত্রিপরিষদে রাজাকার রয়েছে সে সরকারের দ্বারা প্রকৃত সব যুদ্ধাপরাধীর ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।
তিনি গতকাল বাদ জোহর কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়ায় অনুষ্ঠিত খেলাফত আন্দোলনের এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন। তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী। এ সময় ইসলামবিরোধী সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা এবং মসজিদে মসজিদে দোয়া ও ফজরের নামাজে কুনুতে নাঝেলা পড়ার জন্য আলেম, ইমাম, পীর-মাশায়েখের প্রতিও আহ্বান জানান নেতারা। এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় জোটের ব্যানারে আজ এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভসহ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।
ইসলামী রাজনীতি বন্ধের চক্রান্ত সহ্য করা হবে না-ইসলামী আন্দোলনের বিক্ষোভ আজ : ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, কোনো অজুহাতে ধর্মদ্রোহী নাস্তিক গোষ্ঠীর আস্ফাালন সহ্য করা হবে না। নাস্তিক ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী ব্লগারদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে, নতুবা মুসলমানদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে পরিণাম ভালো হবে না। তিনি গতকাল দুপুরে পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ধর্মদ্রোহী নাস্তিক ব্লগারদের আল্লাহ, রাসূল, কোরআন ও ইসলামবিরোধী অশ্লীল প্রচারণার নিন্দা এবং ইসলামবিদ্বেষী চক্রের ইসলামী রাজনীতি বন্ধের চক্রান্তের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি অবিলম্বে ইসলামবিরোধী প্রচারণায় লিপ্ত সব ব্লগ বন্ধ করে দিয়ে আল্লাহ-রাসুল ও ইসলামী বিধি-বিধানের বিরুদ্ধে যারা অশ্লীল প্রচারণায় লিপ্ত তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাান। এজন্য ব্লাসফেমি আইন প্রণয়নেরও দাবি জানান তিনি। এসব দাবিতে তিনি আজ বিকাল ৩টায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল, ইসলামবিরোধী নাস্তিকদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির লক্ষ্যে শুক্রবার দেশব্যাপী মসজিদে মসজিদে খতিবদের খুতবা প্রদান এবং ২৫ ফেব্রুয়ারি ওলামা সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন।
মুফাসসিরিন ওলামা পরিষদের বিক্ষোভ : দেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র রুখতে এবং মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ইসলামী নেতাদেরর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ সারা দেশে গণবিক্ষোভ করবে মুফাসসিরিন ও ওলামা-মাশায়েখ পরিষদ। এতে শামিল হওয়া সবার ঈমানি দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা। তারা বলেন, মাওলানা সাঈদী সাহেবকে ফাঁসির নাটক সাজিয়ে মূলত তারা দেশ থেকে ইসলাম ধ্বংস করতে চতুর্মুখী আয়োজন করছে। সরকারি মদতে শাহবাগ চত্বরে মহান আল্লাহ তায়ালা, মহানবী (সা.), ইসলাম ও পবিত্র কোরআনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে যা কোনো মুসলমান এক ফোঁটা রক্ত থাকতে মেনে নিতে পারে না।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন মারেফাতে হুজুর আল্লামা পীরে কামেল মুশতাক ফয়েজী, মাওলানা লুত্ফুর রহমান লক্ষ্মীপুরী, মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মাদ মুছা, মাওলানা মুনিরুল ইসলাম, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাও. তাজুল ইসলাম, মাও. নুরুল ইসলাম, মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ পীর সাহেব শর্ষিনা প্রমুখ।
ইসলামবিরোধী যে কোনো চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে – বেফাক : ব্লগসহ সারা দেশে চলমান ইসলামবিরোধী পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ, সব ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধসহ সরকারের প্রতি চার দফা দাবি পেশ করেছে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের নেতারা। গতকাল বিকালে মাতুয়াইলের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বেফাক সহ-সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সভাপত্বিত্বে কেন্দ্রীয় নেতাদের এক জরুরি বৈঠকে নেতারা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের রায় এবং তার প্রতিবাদ নিয়ে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে আয়োজিত কর্মসূচির বিষয়টি যেহেতু একটি রাজনৈতিক বিষয় ছিল তাই সে সম্পর্কে আমরা কোনো মতামত প্রকাশ করিনি। কিন্তু আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করছি, এই মঞ্চের উদ্যোক্তারা ক্রমেই এটিকে ইসলাম বিরুদ্ধাচরণের প্লাটফরমে পরিণত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এমনকি এই মঞ্চের উদ্যোক্তাদের কতিপয় ব্লগার তাদের ব্লগে আল্লাহ-রাসুল ও ইসলামের অবমাননায় যেসব মন্তব্য প্রকাশ করেছে, তাতে তাদের আসল রূপটি ফুটে উঠেছে। অচিরেই সরকার তাদের ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ না করলে কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে।
তারা চার দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হচ্ছে—সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে চলমান সব আন্দোলনের প্রতি যেভাবে ব্যাপক সহানুভূতি প্রদর্শন করছে, অনুরূপভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশের জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে ইসলাম অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, আল্লাহ, রাসুল, কোরআন, দাড়ি-টুপি, পর্দা-হিজাব প্রভৃতি ইসলামী প্রতীক অবমাননার মাধ্যমে বিরাজিত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, প্রকাশ্য রাজপথে দাড়ি-টুপিধারী পথচারীকে অপমান করার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারপূর্বক অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বাংলাদেশের যে কোনো জায়গায় তৌহিদি জনতার গণজমায়েত, সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং ও গণঅবস্থানের গণতান্ত্রিক অধিকার দেয়া। অন্যথায় দেশের লাখো মুসলিম জনতা সব বাধা অতিক্রম করে ঈমান-আকিদা ও ধর্মীয় প্রতীকগুলোর মর্যাদা রক্ষায় সর্বাত্মক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
খেলাফত মজলিস : খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলামের বিরুদ্ধে নাস্তিক-মুরতাদদের অপতত্পরতা রুখে দাঁড়াব। অবিলম্বে মহানবী (সা.) ও ইসলামের কুত্সা রটনাকারী ব্লগারদের বিচার করতে হবে। তা না হলে জাতির কাছে শেখ হাসিনা সরকার নাস্তিক-মুরতাদদের দোসর হিসেবে বিবেচিত হবে। পুলিশ আর দলীয় সন্ত্রাসী দিয়ে আল্লাহ-রাসুল প্রেমিক তৌহিদি জনতার বিস্ফোরণ ঠেকানো যাবে না। ইসলামের ওপর আঘাত করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেনি। সালমান রুশদী-তাসলিমা নাসরিনদের মতো নব্য নাস্তিক-মুরতাদদের বিরুদ্ধেও মানুষ রাজপথে নেমে আসবে। তিনি গতকাল খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাপ্তাহিক সভায় একথা বলেন।
কল্যাণ পার্টি : মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীর প্রতীক। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের জনগণ ধর্মপরায়ণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। গুটিকয়েক নাস্তিক এদেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে দেশের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে লিপ্ত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মুসলিম লীগ : মুসলিম লীগের নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, আল্লাহ ও মহানবীর অবমাননাকারী ব্লগারদের অবিলম্বে শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় এদেশের তৌহিদি জনতা ফুঁসে উঠলে তা কেউ ঠেকাতে পারবে না। বিবৃতিদাতারা হলেন—দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল হক মজুমদার, মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের প্রমুখ।
লেবার পার্টি : লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ৯০ ভাগ মুসলমানের ও শাহজালাল-শাহপরানের পূণ্যভূমি বাংলাদেশে বসে জাহান্নামি নাস্তিক-মুরতাদ ব্লগাররা মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে ইসলাম, মুসলমান ও রাসুল (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি ও অবমাননামূলক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে তৌহিদি জনতার হৃদয়ে কুঠারাঘাত করেছে। সম্প্রতি অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক ওয়েবসাইটে ব্লগার নামধারী কিছু কুলাঙ্গার নাস্তিক অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য লিখনী দিয়ে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছে। তাই ইসলামপ্রিয় তৌহিদি জনতা নাস্তিক-মুরতাদসহ ইসলামবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দিতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে রাজপথে নেমে আসতে হবে।
ইসলামী ঐক্যজোটের বিক্ষোভ আজ : আজ বাদ আসর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনলাইনে বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক সাইটে আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর অবমাননার প্রতিবাদে ইসলামী ঐক্যজোট ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বক্তব্য রাখবেন কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।
ইমাম-খতিব ঐক্য পরিষদ : আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহানবীকে কটাক্ষকারী ব্লগারদের গ্রেফতার এবং যুদ্ধাপরাধীদের আগে ধর্মদ্রোহীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইমাম-খতিব ঐক্য পরিষদ। গতকাল রাজধানীর শনির আখড়ায় ৪ শতাধিক ইমাম-খতিবের সমন্বয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই আলটিমেটাম দেয়া হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মুফতি সুলতান আহমদ, মহাসচিব শায়খুল হাদিস আল্লামা আবদুল আউয়াল প্রমুখ।
সমমনা ১২ দল : ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, নির্যাতন চালিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। শাহবাগ চত্বরে কুলাঙ্গার কার্টুনিস্টরা আল্লাহ তায়ালা, নবী-রাসুল, ইসলামী বিধি-বিধান ও কোরআনের বিরুদ্ধে যে বিষোদগার করছে তার প্রতিবাদ করা সব মুসলমানের ওপর ফরজ। অথচ ঈমানি দাবি পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ ও সন্ত্রাসী বাহিনী যেভাবে গুলি ও তাণ্ডব চালিয়েছে তা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না।
২৫ সমমনা সংগঠন : ২৫ সমমনা ও ইসলামী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, একশ্রেণীর স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ যেভাবে ইসলাম, মুসলমান ও আলেম-ওলামার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাচ্ছে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কোনো অজুহাতেই নাস্তিক-মুরতাদদের আস্ফাালন এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মেনে নেবে না। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সম্প্রতি খুন হওয়া ব্লগার রাজীবের (থাবা বাবা) লেখা আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলামের বিভিন্ন ইবাদত নিয়ে যে জঘন্য ও কুরুচিপূর্ণ ব্লগ প্রকাশিত হয়েছে; কোনো মুসলমান এসব সহ্য করতে পারে না। সংগঠনগুলো হচ্ছে জাতীয় তাফসির ফাউন্ডেশন, মুসলিম লীগ প্রমুখ।
এছাড়া তীব্র প্রতিবাদ এবং নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে জাতীয় ইমাম উলামা পরিষদ, হক্কানি পীর-মাশায়েখ পরিষদ, নাস্তিক-মুরতাদ প্রতিরোধ কমিটি, মুফাসসির পরিষদ, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ইসলামিক মিডিয়া ফোরাম, জাগপা ছাত্রলীগ, তাহফিজে হারামাইন পরিষদ, ঈমান আকিদা হেফাজত কমিটি, ইসলামী ঐক্য আন্দোলন, জাতীয় ওলামা পরিষদ প্রমুখ সংগঠন।
খবরসূত্রঃ আমার দেশ, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ [লিংক]