রাজধানীর শাহবাগে চলমান আওয়ামী লীগ-বামদের শোডাউনের গতকাল ১১তম দিনে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং আওয়ামী লীগ ও বাম সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা ভিন্নমতের সম্পাদক, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও টকশো অনুষ্ঠানের আলোচকদের খতম করার প্রকাশ্য হুমকি দেন। তাদের খতম করার জন্য একাত্তরের মতো বাঁশি, অস্ত্র প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, কলামিস্ট ড. আসিফ নজরুল, ড. পিয়াস করিমদের মতো রাজাকারদের নির্মূল করা আমাদের আন্দোলনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে মিরপুরে শাহবাগপন্থি বলে কথিত এক ব্লগার খুন ও জামায়াতে ইসলামী সোমবার হরতাল ডাকায় শাহবাগে লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। রাত এগারটার দিকে আয়োজকরা এই ঘোষণা দেন। এর আগে প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।
তারা গতকাল দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক নয়া দিগন্ত, দৈনিক সংগ্রাম, দিগন্ত টেলিভিশনের সাংবাদিকদের প্রতিহত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। গতকাল বিকালে আয়োজিত পূর্বঘোষিত গণজাগরণ সমাবেশ একপর্যায়ে দেশের ভিন্নমতের গণমাধ্যম বন্ধ করা, এসব গণমাধ্যমে কর্মরতদের লাঠিসোটা নিয়ে প্রতিহত করা, গণমাধ্যমগুলোর কার্যালয় দখল করার সমাবেশে পরিণত হয়। ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় জনতা’ স্লোগানে প্রতিপক্ষ নির্মূলের রণধ্বনিতে গতকাল প্রকম্পিত হয়ে ওঠে শাহবাগ।
বিরোধী মতাদর্শের ব্যক্তিদের মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গত ১০ দিনেও সরকার দখল করে সেগুলো জাতীয়করণ না করায় এসব প্রতিষ্ঠান এখন শাহবাগে অবস্থানরতরাই লাঠিসোটা নিয়ে দখল করার ঘোষণা দেয়। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করার অধিকার হরণ করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে গতকাল মঞ্চ থেকে শিগগিরই জামায়াতের মগবাজারের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়ার হুঙ্কার দেয়া হয়। পাড়া-মহল্লা, স্কুল-কলেজসহ দেশের সর্বত্র জামায়াতকে পিটিয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়া হয়। ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই, ‘জবাই করো জবাই করো’, ‘শিবির ধরো জবাই করো’ ইত্যাদি মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত ছিল শাহবাগ।
যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমার আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে গতকাল সমাবেশের নতুন সময়সূচি ঘোষণার পাশাপাশি বিভিন্ন দাবি জানানো হয়। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ অবরোধ করে রাখা হবে বলে ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ ও বাম দলের নেতাকর্মীরা।
জামায়াতে ইসলামীর নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম নামের একটি সংগঠন ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ সমাবেশ শুরু করলেও প্রথম দিন থেকেই এর নেতৃত্বে আছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক বিভিন্ন বাম দলের নেতারা। আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠানের নেতারা প্রথম দিন থেকেই এতে সংহতি জানাচ্ছেন।
গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষেদ্গার : শাহবাগের অবরোধস্থলে নির্মিত ‘গণজাগরণ’ মঞ্চ থেকে গতকাল গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিক বাম দলের নেতাকর্মী এবং তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা। মঞ্চে বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, ‘আমার দেশ, নয়া দিগন্ত, সংগ্রাম ও দিগন্ত টিভি বন্ধ করতে হবে। এসব গণমাধ্যম দেশের শত্রু আর রাজাকার-কুলাঙ্গারদের সহযোগী। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসীরা এসব গণমাধ্যম বর্জন করে এগুলোর সাংবাদিকদের প্রতিহত করুন।’ তিনি আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে আর একটা শব্দ লেখা হলে আপনাকে খতম করা হবে।’
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘রাজাকারদের সহযোগী আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের চামড়া আমরা তুলে নেব। আমার দেশ আমাদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে মনগড়া রিপোর্ট করছে।’ এ সময় তিনি মাহমুদুর রহমানের উদ্দেশে দর্শক-শ্রোতাদের কাছে প্রশ্ন রাখেন—‘মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলায় রাজাকারদের সহযোগীদের এত সাহস হয় কি করে?’
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, ‘টিভি চ্যানেলের টকশো অনুষ্ঠানে কিছু কুলাঙ্গার শাহবাগ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।’ বক্তব্যে ছাত্রলীগের ওই নেতা ড. পিয়াস করিম, অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের নামোল্লেখ করে বলেন, ‘সাবধান করে দিচ্ছি, শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে আর উল্টোপাল্টা কথা বললে আপনাদেরও নির্মূল করা হবে।’ গতকাল মঞ্চে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পিঠের চামড়া তুলে নেয়ার হুমকি দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদি হাসান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক, ছাত্রনেতা সাদেকুর রহমান, ছাত্রঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক সোহান সোহরাব, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাসান তারেক, বিপ্লবী ছাত্র সংহতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান প্রমুখ।
এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি, জামায়াতে ইসলামী নেতাদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল, ভিন্নমতের গণমাধ্যম বন্ধ করা ইত্যাদি দাবিতে মঞ্চে আরও বক্তব্য দেন ছাত্র সমিতির আহ্বায়ক জাহিদুল রহমান, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি প্রবীণ সাহা, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি আবদুর রউফ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি সাইফুজ্জামান সাকন, ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি এসএম শুভ, ছাত্রমৈত্রী সভাপতি আবদুর রউফসহ আরও অনেকে।
অন্যান্য দিনের মতো গতকালও শাহবাগের মঞ্চ ও এর আশপাশ এলাকা দখলে ছিল বাম ও আওয়ামী লীগসহ তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাদের। বিকাল ৩টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ৪টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরুর ঘোষণা দেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও আওয়ামীপন্থী সাংস্কৃতিক সংগঠক নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। সমাবেশ শুরুর আগেই মঞ্চে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষক অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী সমর্থিত শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের মাঝামাঝি মঞ্চে ওঠেন ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক, হালিমা খাতুন প্রমুখ। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে মঞ্চে ওঠেন আওয়ামীপন্থী কবি সৈয়দ শামসুল হক ও তার স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সমাবেশ শুরুর পর সার্জেন্ট জহুরুল হককে স্মরণ করা হয়। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক অঞ্জন রায়। এতে সভাপতিত্ব করেন কথিত ব্লগার আওয়ামী লীগ সমর্থক চিকিত্সকদের সংগঠন স্বাচিপের সদস্য ডা. ইমরান এইচ সরকার।
জামায়াত কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি : গতকাল শাহবাগের অবরোধস্থলের মঞ্চ থেকে জামায়াতে ইসলামীর রাজধানীর মগবাজারের প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশের শাখা কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন আওয়ামী লীগ ও বাম নেতারা। গতকালও শাহবাগ মুখরিত ছিল জামায়াতবিরোধী নানা স্লোগানে। অধিকাংশ স্লোগানের মূল কথা হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের সম্পত্তি দখল এবং দলটির নেতাকর্মীদের হত্যা বা জবাই করা। জবরদখল, হত্যা, জবাইয়ের মতো ফ্যাসিবাদ উস্কে দিয়ে গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেয়ার এসব স্লোগানে দেশ-বিদেশের সচেতন নাগরিকরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। রাজধানীর শাহবাগের মতো জনাকীর্ণ এলাকায় এমন উগ্র স্লোগান স্বাধীনতার পর কখনও শোনেননি বলে নগরীর প্রবীণ বাসিন্দাদের অভিমত।
আওয়ামী লীগের দলীয় স্লোগান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় দলটির নেতাদের দেয়া স্লোগানও সমাবেশে ছিল। এছাড়া মহাজোটের শরিক বিভিন্ন বাম দলের দলীয় স্লোগানের অনুকরণেও স্লোগান দেয়া হয়। জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি দেয়া, দলটির কর্মীদের হত্যা করার পাশাপাশি গতকাল তাদের কবর পাকিস্তানে দেয়ার স্লোগানও শাহবাগে উচ্চারিত হয়। গতকাল সমাবেশে জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি হোসেন আহমেদ তফসির বলেন, ‘জামায়াত যদি আর কোনো আন্দোলকারীর ওপর হামলা চালায় তাহলে জামায়াতের মগবাজার কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।’ শিবিরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগুন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে না। আর কারও ওপর হামলা করা হলে ছাড় দেয়া হবে না।’ এ সময় মঞ্চে উপস্থিত সবাই তাকে সমর্থন জানিয়ে ‘রাজাকারদের কার্যালয় দখল করো, দখল করো’, রাজাকারদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
গতকালের অন্যান্য চিত্র : গত বৃহস্পতিবার শাহবাগে মোমবাতি প্রজ্বলন শেষে জাগরণ মঞ্চ থেকে শুক্রবারের জাগরণ সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। গতকাল ১১তম দিনে শাহবাগের কর্মসূচি শুরু হয় সকালে। গণজাগরণ সমাবেশের আগে গান ও স্লোগানে মুখর ছিল শাহবাগ। গতকাল বেলা ১১টার দিকে সপরিবারে সেখানে উপস্থিত হন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ। এ সময় তার পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুরের দিকে শাহবাগে আসেন সঙ্গীতশিল্পী প্রীতম।
গতকালের সমাবেশকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি র্যাবের সদস্যরাও ব্যস্ত ছিলেন। সরেজমিন দেখা যায়, শাহবাগের প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সিসি ক্যামেরা দিয়ে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাদা পোশাক পরা পুলিশও দায়িত্ব পালন করেন। হোটেল রূপসীবাংলা মোড়, কাঁটাবন মোড়, শিশুপার্ক মোড় ও টিএসসি চত্বর দিয়ে পুলিশ শক্ত অবস্থান নেয়। সন্দেহভাজনকে তল্লাশি করা থেকে শুরু করে পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। সমাবেশস্থলের উঁচু ভবনের ছাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাইনোকুলার দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।
রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে গতকাল বিকালে আমার দেশকে বলেন, ‘শাহবাগের সমাবেশের চারটি প্রবেশপথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভেতরে সিসি টিভি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করা হয়।’ এছাড়া গত ১১ ফেব্রুয়ারি শাহবাগের চারদিকে ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয় বলেও তিনি জানান। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের জন্য বসানো হয় অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম। সেখানে বড় বড় দুটি মনিটরের মাধ্যমে সমাবেশের ভেতরের সবকিছুই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নতুন কর্মসূচি : মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে গতকাল বিকালে মঞ্চ থেকে নতুন কর্মসূচি ও গৃহীত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আজ শনিবার থেকে আন্দোলন কর্মসূচি চলবে প্রতিদিন বেলা তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। তবে কোনো বিশেষ প্রয়োজনে নোটিশ দেয়া হলে দলে দলে শাহবাগে আসার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে মিরপুরে কথিত এক ব্লগার খুন এবং জামায়াতে ইসলামী হরতাল ঘোষণা দেয়ার পর পর ওই কর্মসূচি বাতিল করে লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। রাত ১১টার দিকে এই ঘোষণা দেয়া হয়।
এছাড়া আগামী রোববার সকাল ১০টায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। জেলা, গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় গণজাগরণ মঞ্চ গড়ে তোলা হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে যেখানেই জামায়াতের নাশকতা দেখা যাবে, সেখানেই প্রতিরোধে মানবদুর্গ গড়ে তোলা হবে। দেশের সর্বত্র ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বয়কট করতে জনসংযোগ করা হবে।
গতকাল বিকাল চারটা সমাবেশ শুরু হলে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে এসব নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন কথিত ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার। এ সময় তিনি আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ডাকে সারাদেশ তিন মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি মোমবাতি জ্বালিয়ে জনগণ সংহতি জানিয়েছে। এ সংগ্রাম থেকে পিছু হটে যাওয়ার উপায় নেই। লড়াই শুরু হয়েছে, লড়াই চলবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না বিজয় আসে।’

খবরসূত্রঃ দৈনিক আমার দেশ, ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ [নিউজ লিংক]

Citation is loading...