২০১৩ সালে যখন শাহবাগ কায়েম হয়, জহু হলে একেকটা রাত ভয়াবহ আতংক আর ভয় নিয়ে কাটাইছি। রুমে ঘুমাইতে ভয় পাইতাম। প্রায় দিন বিভিন্ন অজুহাতে মধ‍্য রাতে রেইড দিতো। আমার চোখের সামনে রাত চারটায় জিয়ারে মেরে দাঁত ফেলে দিলো। জিয়ার রক্তের দাগ চার তলা থেকে এক্সটেনশনের নীচতলায় পর্যন্ত লেগে ছিল। মাদ্রাসায় পড়েছি, আরবীর ছাত্র, তারপরও একটা ইসলামী বই টেবিলে রাখতে পারি নাই। রাতে ঘুমাইতাম আর আতঙ্কে থাকতাম।

২০১৬ এর নভেম্বর। আমার বিভাগে লেকচারার পদে আবেদন করেছি। আমাকে ঠেকানোর জন‍্য বিভাগের তৎকালীন চেয়ারম‍্যান আমাকে শিবির ব্লেইম দিয়ে সবার কাছে ছড়ায়ে দিতে বললো। পরেরদিন সকালে RC মজুমদারে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত আসবে, আমার প্রোগ্রামে উপস্থাপনা করার কথা ছিল। আমাকে রাতে জানানো হলো আমি শিবির করি দেখে আমাকে প্রোগ্রাম উপস্থাপনা করতে দেয়া হবে না।

বিতর্কের সূত্রে ডিবেটিং ক্লাবের সিনিয়রদের সাথে যে সম্পর্ক ছিল, সেই সম্পর্কের দাবি নিয়ে DUDS এর এক বড় ভাইরে কইলাম ভাই আপনি একটু আমার বিষয়ে আমার চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলবেন? তার জবাব শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেছিলাম।

সে আমাকে বলে- “তুই হুজুর মানুষ, তোদেরকে শিবির ব্লেইম থেকে বাঁচানো কঠিন। তোর কি শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে কোন ছবি আছে?” আমি- না, ভাই নাই, কেন? সে-ছবি থাকলে দেখাইয়া বলতে পারতাম তুই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে গেছোস, সে হিসাবে তোরে সেইভ করার চেষ্টা করতাম।

এই হইলো, সেই শাহবাগ। ১৬ কোটি নাগরিকের জীবনকে প্রত‍্যেকটা পরতে পরতে ভোগান্তির ছাপ লাগায়ে এই শাহবাগ কায়েম হইছিলো। প্রায় সবার জীবনে কোন না কোনভাবে ‘শাহবাগী-ক্ষত’ সৃষ্টি করেছে এই শাহবাগী গোষ্ঠী।

আপনারা আবার সেই শাহবাগের জানোয়ারদের হাতে মাইক তুলে দিয়ে পুরনো আন্দোলনের পালে হাওয়া দেন!! ভুলে যাইয়েন না, যাদেরকে হাত করে শাহবাগ কায়েম করেছিলেন, তারা আপনার পাশে এখন নাই। এটা ২০১৩ না। শাহবাগের কবর রচিত হইছে চব্বিশে।

মনে রাইখেন ভালো করে।

Jubely তো কেবল একটা ঘটনা বললো। এমন আরো বহু ঘটনার অভিজ্ঞতা হয়েছে আমাদের।

– Mahade Hasan, 12 March, 2025

Citation is loading...