গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের মালিকানাধীন ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠান এবং ইসলামী ব্যাংকে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে ছাত্রলীগের ক্যাডারেরা।
এ দিকে গত শুক্রবার মহানবী সা: ও ইসলামের বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে ভাঙচুর ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে অজ্ঞাতনামা হাজার হাজার লোককে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
বগুড়া অফিস জানায়, গতকাল বগুড়া শহরে ১৪ দলের মিছিল থেকে ইসলামী ব্যাংকের বুথে হামলা, ভাঙচুর এবং মিছিলের পেছনে ফাঁকাগুলি বর্ষণের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর ১২টায় শহরের টেম্পল রোড থেকে ১৪ দলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলকারী ছাত্রলীগ কর্মীরা শহরের কয়েকটি রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে নবাববাড়ী রোডের ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে হামলা চালায়। তারা বুথটি বন্ধ পেয়ে তার সাইনবোর্ড ইটপাটকেল ছুড়ে নষ্ট করে। এ সময় পুলিশ সেখানে নীরব ছিল। একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক বলেন, মিছিলের পেছনে পরপর ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষণ হলে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখন মিছিলকারীরা আতঙ্কে এদিক সেদিক দৌড় দেয়। এ ব্যাপারে সদর ফাঁড়ির টিএসআই মন্জু বলেন, আমরা বাধা দেয়ার কারণে বড় ঘটনা ঘটেনি।
১৫ হাজার লোকের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা : শুক্রবার জুমার নামাজের পর মুসল্লিদের সাথে সংঘর্ষে, পুলিশ আহত এবং প্রজন্ম মঞ্চ ভাঙচুরের ঘটনায় সদর থানায় ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের সভাপতি মাওলানা আলমগীর হোসাইনসহ ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে ১৫ হাজার লোকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
বগুড়া সদর থানার ওসি (তদন্ত) রিয়াজ উদ্দীন জানান, শুক্রবারের জুমার নামাজ শেষে কয়েক হাজার মুসল্লি সাতমাথায় প্রজন্ম মঞ্চের ওপর হামলা করে ভাঙচুর করে এবং পুলিশ বাধা দিলে তাদের ওপরও হামলা চালায়। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ সাতমাথা ও থানা রোডে অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে আটক করে। এরপর রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আরো চারজনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর আব্দুর রাজ্জাক বাদি হয়ে মাওলানা আলমগীর হোসাইনকে প্রধান আসামি করে ৩৬ জনের নামসহ অজ্ঞাত ১৪-১৫ হাজার মানুষের বিরুদ্ধে শুক্রবার গভীর রাতে মামলা করেন। গ্রেফতারকৃত ২০ জনকে আদালতে পাঠানো হয়।
সদর থানার ওসি সৈয়দ শহীদ আলম জানান, গ্রেফতারের স্বার্থে আসামিদের পরিচয় গোপন রাখা হচ্ছে।
সারিয়াকান্দি : শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের অফিসে হামলা করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডারেরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সোয়া ৭টায় জামায়াতে ইসলামী সারিয়াকান্দি পৌর শাখা অফিস ও উপজেলা ছাত্রশিবিরের অফিসে ছাত্রলীগের ১০-১২ জন ক্যাডার জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় তারা আগুন ধরিয়ে দিলে অফিসের আসবাবপত্র, কুরআন-হাদিস ও ইসলামি বই পুড়ে যায়। ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। আশপাশের জনগণ আগুন নিভিয়ে ফেলে।
এ ব্যাপারে ওসি ফাইজুল ইসলাম বলেন, কে বা কারা জামায়াত অফিসে আগুন দিয়েছে।
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙচুরসহ পুলিশের সাথে আলেম-মুসল্লিদের সংঘর্ষের ঘটনায় ইসলামপন্থী সমমনা ১২ দলের সাড়ে পাঁচ হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করে পৃথক দু’টি মামলা করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা ও রাজপাড়া থানায় মামলা দু’টি করা হয়। এ ছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে আটক ২৬ জনের মধ্যে এ দু’টি মামলায় ১৮ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, মহানগরীর আলুপট্টি গণজাগরণ মঞ্চ ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বোয়ালিয়া থানার এসআই নাসিরুল ইসলাম বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় ১০০ জনের নাম উল্লেখসহ আরো পাঁচ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। শুক্রবার আটককৃতদের মধ্যে ৯ জনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্য দিকে মহানগরীর রাজপাড়া থানার ওসি এ বি এম রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, মহানগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় ৯ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রাজপাড়া থানার এসআই মনোয়ারুজ্জামান বাদি হয়ে শুক্রবার রাতে মামলাটি করেন।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, সরিষাবাড়ীতে ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ তারাকান্দি সারকারখানা শাখায় গত শুক্রবার রাতে সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাংকের দরজা, জানালা, সাইন বোর্ড ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।
জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার পর জয়বাংলা স্লেøাগান দিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা ব্যাংক ভবনের সামনে এসে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ছুড়ে ব্যাংকের দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করে এবং ব্যাংকের সাইন বোর্ড ভাঙচুর করে রাস্তার ওপর নিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করে।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার ছিল ব্যাংক বন্ধের দিন। তাই দুষ্কৃতকারীরা ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ব্যাংকের বাহিরে রাস্তা থেকে ইটপাটকেল নিপে করে ভবনের দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করে এবং সাইন বোর্ডে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি ও অফিসার ইনচার্জ সরিষাবাড়ী থানাকে বিষয়টি তাৎণিক জানিয়েছেন।
তারাকান্দি পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই বসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
বিয়ানীবাজার (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, সিলেটের বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ছাত্রলীগ কর্মীরা জামায়াতে ইসলামীর মালিকানাধীন পাঁচটি দোকান ভাঙচুর ও তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ চার জামায়াত-শিবিরকর্মীকে আটক করেছে।
প্রত্যদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, শুক্রবার বাদ জুমা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইসলামি সমমান দল চারখাই বাজারে বিােভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এ সময় তারা শাহবাগের ও ব্লগারদের কঠোর সমালোচনা করেন। এরই প্রতিবাদে সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের ব্যানারে চারখাই বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এ সময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা মহিয়ান, মেরিডান, মারাম, ইখওয়ান মোটর, দিগন্ত টেলিকম নামের পাঁচটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যা ৭টায় জামায়াত-শিবির চারখাই বাজারে মিছিল বের করলে ছাত্রলীগ কর্মীরা একত্র হয়ে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ধাওয়া করে। শুরু হয় দুই পরে মধ্যে ইটপাটকেল নিপে। এতে উভয়পরে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় চারখাই বাজারসহ উপজেলা সদরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। নাশকতা এড়াতে শহর ও চারখাই বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর উত্তর শাখার আমির মাওলানা নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা তাদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হঠাৎ মিছিল করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে পাঁচটি দোকান ভাঙচুর, দু’টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তাদের কয়েক কোটি টাকার তি হয় বলে তারা জানান।
বিয়ানীবাজার থানার ওসি এ কে এম ফজজুল হক শিবলী অগ্নিসংযোগের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত মিছবা, রুহুল, সুলেমান, মনসাদকে আটক করা হয়েছে।
নওগাঁ সংবাদদাতা জানান, নওগাঁয় নয়া দিগন্ত, আমার দেশ, ইনকিলাবসহ ঢাকা ও বগুড়া থেকে আসা সব পত্রিকায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একদল যুবক। শনিবার বেলা ১১টায় শহরের নওজোয়ান মাঠের সামনে পত্রিকাবাহী গাড়ি থেকে প্যাকেট নামিয়ে সড়কের ওপর নিয়ে আগুন দেয় তারা। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী শহরে যানজট সৃষ্টি হয়। পত্রিকা এজেন্ট জাকের আলী ও পত্রিকা বিক্রেতা সমিতির সভাপতি ইয়াছিন আলী জানান, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ২০-২৫ জনের একটি দল এসে পত্রিকার গাড়ি থেকে প্যাকেট ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে তারা কয়েকজন পত্রিকা বিক্রেতাকে লাঞ্ছিত করে। তারা মহাসড়কের ওপর নিয়ে আমার দেশ ও নয়া দিগন্ত পত্রিকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পত্রিকা বিক্রেতারা এ ঘটনায় বিুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় উভয় পরে মধ্যে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে বিুব্ধ পত্রিকা এজেন্ট ও বিক্রেতারা প্রধান সড়কের ওপর নওগাঁয় আসা জাতীয় ও স্থানীয় প্রায় ১০ হাজার পত্রিকায় আগুন ধরিয়ে দিয়ে পুড়ে ফেলে বিােভ করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান, গত শুক্রবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা কয়েকটি দলের রংপুর-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও পুলিশসহ ৩০ জন আহত এবং গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় পলাশবাড়ী থানায় ৯৯ জনের নাম উল্লেখসহ চার হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে শুক্রবার রাতে তিনটি মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় পুলিশের হাতে এ পর্যন্ত ১৫ জন গ্রেফতার হয়েছে।
চাঁদপুর সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরে পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা দেয়ার দায়ে চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ বাদি হয়ে হেফাজতে ইসলামের এক হাজার ২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করেছে। শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত মডেল থানার পুলিশ ৪০ জনকে আটক করেছে বলে থানার ওসি মাহাবুব মোরশেদ জানিয়েছেন। মামলা দু’টি করেছেন মডেল থানার এসআই মাহবুব মোল্লা। শুক্রবার বাদ জুমা চাঁদপুর শহরে মহানবী সা:-এর বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে শহরে বিােভ মিছিল বের হয়। মিছিল শেষে শহরের শপথ চত্বর এলাকায় সমাবেশ চলাকালীন একপর্যায়ে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক জাগরণী অস্থায়ী মঞ্চ ভাঙচুর করলে পুলিশের সাথে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশ ১৭৮ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৪৭ রাউন্ড টিয়ার শেল নিপে করে। সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়।
আশুলিয়া সংবাদদাতা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইসলামী সমমনা দলের মিছিল করার অপরাধে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ব্যাপারে ছয়জনকে ধৃত, তিনজনকে পলাতক ও অসংখ্য অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে নাশকতার অভিযোগ এনে থানা পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন এলাকার মসজিদগুলোর মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী জানান, শুক্রবারের ঘটনায় ইমামরা রয়েছেন বিশেষ নজরদারিতে। ইতোমধ্যে থানা পুলিশ সাদা পোশাকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। রোববারের হরতালকে কেন্দ্র করে পুলিশ আরো বেপরোয়ারূপে বিভিন্ন মসজিদ ও বাসাবাড়িতে হন্যে হয়ে তল্লাশি করছে বলেও জানা গেছে।
নেজামে ইসলাম পার্টি অফিস তছনছ : বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ৫১-৫১/এ, পুরানা পল্টনের (ষষ্ঠ তলা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গত রাতে হামলা হয়েছে। একদল লোক তালা ভেঙে অফিসে প্রবেশ করে এবং অফিসের টেবিল, চেয়ার, আলমারিসহ সব আসবাবপত্র এবং কম্পিউটার ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। হামলাকারীরা পবিত্র কুরআন শরীফও ফেলে দিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি।
পার্টির সভাপতি মাওলানা মো: আবদুর রকিব অ্যাডভোকেট ও মহাসচিব মাওলানা মো: আবদুল লতিফ নেজামী পার্টি অফিসে হামলার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে বলেছেন, এতে ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। গতকাল এক বিবৃতিতে নেজামে ইসলাম নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ভিন্নমত পোষণকারী রাজনৈতিক দলের অফিসে হামলা করে হুমকি-ধমকি ও ভীতি প্রদর্শন করার মাধ্যমে নেজামে ইসলাম পার্টিকে আন্দোলন থেকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে না। এ দেশে ইসলামি সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতবব্ধ এই পার্টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাপুরুষোচিত কার্যক্রমে কোনোক্রমেই ভীত নয়। অরাজনৈতিক, ফ্যাসিবাদী ও ন্যক্কারজনক কার্যকলাপের মাধ্যমে তারা তাদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে মাত্র। তাদের এই আচরণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াত অফিস গতকাল শনিবার সকালে ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ। দেশব্যাপী ১৪ দলের বিােভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় ১৩ দলবিহীন আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে পাথরঘাটায় মিছিল বের করে। মিছিলটি ইমান আলী সড়কের মাথায় অবস্থিত জামায়াত অফিস অতিক্রমকালে শহিদুল্লা, ওয়ালিদ মক্কি ও মারুফের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের কিছু উচ্ছৃংখল কর্মী জামায়াত অফিস ভাঙচুর করে। এ সময় পৌরশহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি নাসির সরদারের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ ব্যাপক তাণ্ডব চালায় মর্মে প্রত্যদর্শীরা জানান।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশাল নগরীর বাংলাবাজারে ইবনে সিনার জোনাল ডিপোতে হামলা ও ভাঙচুর করে তিন কর্মচারীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা লিখনের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন এই হামলা ভাঙচুর করেছে বলে ডিপোর ব্যবস্থাপক মো: কামাল হোসেন জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সন্ধ্যার দিকে লিখনের নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন এসে ডিপোর জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেছে। এই সময় তারা মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ আব্দুল আউয়াল, গাড়িচালক মনির হোসেন ও নিরাপত্তা প্রহরী রুহুল মিয়াকে মারধর করে আহত করেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে ব্যবস্থাপক কামাল হোসেন জানান।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, তারা এই ধরনের কোনো খবর পাননি। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো: লিখন বলেন, জনগণ ভাঙচুর করেছে।
এ ছাড়া বরিশালের মুলাদী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়সহ দু’টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে হামলা করার পর ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শনিবার এই ঘটনায় দুই প ঘণ্টাব্যাপী ইটপাটকেল নিপে করে বলে প্রত্যদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে।
প্রত্যদর্শীরা জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশ দেশে অরাজকতার প্রতিবাদে পৌরশহরে মিছিল বের করে। মিছিলটি পৌরশহরে বন্ধ থাকা মুলাদী উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে এসে ইটপাটকেল নিপে করে ও ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে পাশে থাকা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান মুসলিম হোমিও হল ও ফেয়ার কিনিকে ইটপাটকেল নিপে করে। এতে ফেয়ার কিèনিকের জানালার কাচ ভেঙে গেছে। হোমিও হলের সার্টার তিগ্রস্ত হয়েছে। ফেয়ার কিèনিকে হামলা করায় ছাত্রলীগের অপর একটি প এসে বাধা দেয়। এতে দুই প পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিপে করে। ঘণ্টাব্যাপী এই ঘটনা পুলিশ শান্ত করেছে।
মুলাদী থানার ওসি মো: শাহ আলম হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কোনো প থানায় অভিযোগ দেয়নি বলে জানান ওসি।
খবরসূত্রঃ দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ [লিংক]