শাহবাগ আন্দোলনকারীদের পর এবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ভিন্নমতের সব পত্রিকা ও টেলিভিশন বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি দৈনিক আমার দেশ, নয়া দিগন্ত, দিগন্ত টেলিভিশন, দৈনিক সংগ্রাম ও দৈনিক ইনকিলাব এবং কয়েকজন লেখককে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘অনতিবিলম্বে সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক লেখা বন্ধ করুন। তা না হলে আপনাদের মিডিয়া বন্ধ করে আপনাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করাসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করা ও ফাঁসির দাবিতে ১৪ দল আয়োজিত সমাবেশে এ হুঙ্কার দেন হানিফ। হানিফ অভিযোগ করে বলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী, সাম্প্রদায়িক ও উসকানিমূলক সংবাদ-প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করছে এসব মিডিয়া। আর লেখালেখি করছেন কিছু লেখক। তারা তা বন্ধ না করলে জনগণই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এসব মিডিয়া বন্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেয়া হবে।’
হানিফ আরও বলেন, ‘ধর্মপ্রাণ মানুষকে উসকে দিয়ে কিছু ব্যক্তি দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চান। তাদের বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। যারা অ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলা করে, মানুষ মারে, তাদের
এদেশে রাজনীতি করার অধিকার নেই।’
জামায়াতকে হায়েনার দল উল্লেখ করে জামায়াতের উদ্দেশে হানিফ আরও বলেন, ‘আপনারা আবারও প্রমাণ করেছেন ’৭১-এ আপনাদের চরিত্র কেমন ছিল। মানুষ হত্যার রাজনীতি বন্ধ করুন। না হলে জনগণ আপনাদের গণধোলাই দেবে।’
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম গেটে ট্রাকের ওপর অস্থায়ীভাবে মঞ্চ বানিয়ে গতকাল বিকালে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, আমির হোসেন আমু এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আহমদ হোসেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, জাসদের (ইনু) সাধারণ সম্পাদক শরিফ নুরুল আম্বিয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
সাজেদা চৌধুরী বলেন, রাজাকারদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সংগ্রাম শেষ হবে না। জামায়াত-শিবির যেভাবে মানুষ হত্যা করছে, এ ধারা আর সহ্য করা হবে না।
আমির হোসেন আমু বলেন, বিএনপি এ দেশে বিশ্বাস করতে পারে না বলেই দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চেয়েছিল। তাই তারা যুদ্ধাপরাধীদের অপরাধী বলে স্বীকার করে না।
বিরোধীদলীয় নেত্রীকে উদ্দেশ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, যিনি চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী নিজামী-মুজাহিদের গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়ে জাতিকে অপমানিত করেছিলেন, তিনি কীভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেন। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে বাহাত্তরের সংবিধান বাস্তবায়ন করে যুদ্ধাপরাধী ও তাদের দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে গণজাগরণ দেখে বড় পেরেশানিতে পড়ে খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুর চলে গেছেন। তিনি (খালেদা) ভাবছেন আর বোধহয় কাদের মোল্লাকে রক্ষা করা গেল না।
তিনি বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধে মহাজোটকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদের গ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ করে দেশের মানুষ হত্যা করে জামায়াত সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। এ ধারানুযায়ী জামায়াতকে রাষ্ট্র চাইলে সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করতে পারে।
রাশেদ খান মেনন বলেন, জামায়াত নিষিদ্ধ হতেই হবে। সেদিন আর বেশি দূরেও নয়। যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাদের শুধু বিচার নয়, সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে। তারা ’৫২, ’৭১-এর মতো এখনও ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ হত্যা করছে। মেনন বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার মানে ইসলামের বিরুদ্ধে নয়। জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়, তারা যুদ্ধাপরাধীদের দল।
হাসানুল হক ইনু বলেন, জামায়াতে ইসলামী এদেশে ক্রিয়াশীল থাকাবস্থায় দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সমাজ চাইলে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ না করলে রাজনীতির মাঠ থেকে খালেদাকে জনগণ তালাক দেবে। জামায়াতকে হুশিয়ারি করে ইনু বলেন, অস্ত্র ফেলে দিন। না হলে বাধ্য হব আপনাদের দমন করতে।
খবরসূত্রঃ আমার দেশ অনলাইন, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ [লিংক]